অফুরন্ত ভালবাসা পর্ব-1
আবির আর জয় ছোটবেলা থেকে খুব ভাল বন্ধু। ওদের একজনের খুশিতে অন্যজন সব থেকে বেশি খুশি হয়। আবির জয় কে নিজের সব কিছু দিয়ে দিতে পারে। আর জয় ও আবির কে নিজের সব কিছু চোখ বন্ধ করে দিয়ে দিতে পারে। ওদেরকে ছোট থেকে সবাই মানিকজোড় বলে। ওদের মধ্যে কখনো কিছু নিয়ে ঝগড়া হয় নি। ওরা ক্লাস ওয়ান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত একসাথে এক স্কুলে এবং এক কলেজে পড়েছে। ওরা দুজনেই খুব ভাল ছাত্র। আবির এর স্বপ্ন খুব বড় ডাক্তার হবে। আর জয় ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। তাই ভর্সিটিতে ওরা দুজন দুই ভার্সিটিতে চান্স পাই। ভার্সিটি আলাদা হলেও ওদের বন্ধুত্ব একটুঅ কমেনি। আবির ওদের ক্লাসের সেরা ছাত্র। ওর সঙ্গে লেখাপড়ায় কেউ পাল্লা দিতে পারে না। পরিক্ষায় আবির সব সময় সবার থেকে বেশি নাম্বার পায়। আবিরের ক্লাসে ওর কিছু বন্ধু রয়েছে। ওরা জয় এর ও খুব ভাল বন্ধু। হঠাৎ একদিন আবিরের সাথে একটি মেয়ের ধাক্কা লাগে। আবির সরি বলার জন্য মেয়েটির দিকে তাকানোর সাথে সাথেই মেয়েটি ওর গালে একটি থাপ্পর বসিয়ে দিল। এর জন্য আবিরও প্রচন্ড রেগে যাই। ওদের দুজনের মধ্যে খুব ঝগড়া হয়। এরপর আবির ওর ক্লাসে এসে দেখে ঐ মেয়েটা ওর ক্লাসে। আবির ওদের ক্লাসের একটি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে ঐ মেয়েটির নাম প্রিয়া। প্রিয়া ওদের ক্লাসে নতুন ভর্তি হয়েছে। প্রিয়াও আবির কে ওদের ক্লাসে দেখে একটি মেয়ের কাছ থেকে আবিরের সম্পর্কে সব কিছু জানে। প্রথম দিন থেকেই আবির আর প্রিয়ার মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। ওরা দুজনেই দুজন কে একেবারে সহ্য করতে পারে না। আবির প্রিয়াকে পেতনী বলে ডাকে। আর প্রিয়া আবির কে অভিশাপ বলে ডাকে। এতদিন আবিরের সাথে লেখাপড়ায় ওদের ক্লাসের কেউ পাল্লা দিতে পারে নি। পরিক্ষায় আবির সবার থেকে বেশি নাম্বার পেয়েছে। কিন্তু এখন পরিক্ষায় আবির আর প্রিয়া সমান নাম্বার পেয়েছে। প্রিয়াও পড়াশোনায় আবিরের মতই ভাল। ওদের দুজনের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। ওরা দুজনেই দুজন কে হারানোর জন্য আরো মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে শুরু করে। কিন্তু ওরা কেউই কাউকে হারাতে পারছে না। একবার আবির একটু বেশি নাম্বার পেলে আরেক বার প্রিয়া বেশি নাম্বার পায়। এরমধ্যে একদিন প্রিয়া ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসে বই পড়ছিল। হঠাৎ কিছু খারাপ ছেলে প্রিয়াকে বিরক্ত করতে শুরু করে। ভার্সিটির আরো অনেক ছাত্র ছাত্রী ছিল সেখানে। কিন্তু ভয় পেয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করেনি। আবির এগুলো দেখে চুপ থাকতে পারেনি। প্রিয়ার সাথে ওর যতই শত্রুতা থাক। একটা মেয়েকে এইভাবে বিরক্ত করছে দেখে চুপ থাকা যাই না। তাই আবির এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। এবং ঐ ছেলেগুলোর সাথে ওর মারামারি শুরু হয়। এক পর্যায়ে একটি ছেলে আবিরের মাথায় লাঠি দিয়ে খুব জোরে আঘাত করে। এবং আবির অজ্ঞান হয়ে যায়। আবিরের মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। প্রিয়া তারাতারি আবির কে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আবিরের শরিল থেকে অনেক রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় ডাক্তার জানায় আবিরের রক্তের প্রয়োজন। প্রিয়া আর আবিরের রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় প্রিয়া আবির কে রক্ত দেয়। আবিরের জ্ঞান ফেরার পর আবির জানতে পারে প্রিয়া ওকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে। তারপর আবির আর প্রিয়া দুজন দুজনকে আগের শত্রুতার জন্য সরি বলে। এবং এরপর থেকে ওরা দুজন বন্ধু হয়ে যায়। এই বন্ধুত্ব থেকে ধিরে ধিরে ওরা দুজন দুজনকে ভালবেসে ফেলে। আবির প্রথম ওর ভালবাসার কথা প্রিয়া কে জানায়। এবং প্রিয়া খুশি মনে আবিরের ভালবাসার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। এরপর থেকে ওদের সম্পর্ক চলতে থাকে। এবং ধিরে ধিরে ওরা দুজন দুজনকে আরো বেশি ভালবেসে ফেলে।
আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এর পরের পর্ব গুলো পড়তে চাইলে। এবং এরকম আরো পোষ্ট পড়তে চাইলে ঘুরে আসুন আমার ব্লগ swarnaliirinsathi.blogspot.com- এ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন