জানিনা কখন ভালবেসেছি তোকে শেষ পর্ব।

মেঘার বাড়িতে গিয়ে রাজ দেখে মেঘা নিজের রুমে বসে কাঁদছে।  রাজ কে দেখে মেঘা তারাতারি চোঁখের পানি মুছে ফেলে রাজের দিকে তাকায়। রাজও একদৃষ্টিতে মেঘার দিকে তাকিয়ে আছে। মেঘাকে আজকে‌ অনেক সুন্দর লাগছে। যেন আকাশ থেকে একটা পরি নেমে এসেছে। রাজ এর আগে কখনোই মেঘাকে এইভাবে খেয়াল করেনি। রাজ যেন মেঘার দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না। মেঘাও রাজের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এইভাবে কিছুক্ষন চুপ করে তাকিয়ে থাকার পর রাজ প্রথম কথা বলে। রাজ মেঘার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে "মেঘা ছোটবেলা থেকে তোর সাথে একসাথে বড় হতে হতে কখনো বোঝতেই পারিনি তুই আমার জীবনে ঠিক কতটা জায়গা জুড়ে রয়েছিস। তোকে আমি কখনো এইভাবে গুরুত্ব দিয়ে খেয়ালও করিনি। কিন্তু যখন জানলাম তোর বিয়ে ঠিক‌ হয়ে গেছে। তুই আমাকে ছেড়ে সারা জীবনের জন্য চলে যাবি। তখন বোঝতে পেরেছি তুই আমার জীবনে ঠিক কতটা। তোকে ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার। আমি তোকে ভালবাসি মেঘা। জানিনা কখন ভালবেসেছি তোকে। শুধু জানি তোকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবনা। প্লিজ মেঘা তুই আমাকে ছেড়ে যাসনা। আমি তোকে ছেড়ে বাঁচতে পারবনা।" রাজ এর কথা শুনে মেঘা ওর চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিল না। মেঘার দুই চোঁখ দিয়ে যেন ঝরনার মত পানি বয়ে যাচ্ছে। মেঘা কাঁদতে কাঁদতে রাজ কে মারতে শুরু করে। আর রাজ কে বলে "এত দিনে তোর এই কথাটা মনে হল।" বলে মেঘা রাজ কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। রাজও মেঘাকে দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মেঘা রাজ কে জিঙ্গাসা করে এখন কি হবে আজকেত মেঘার এনগেইজমেন্ট। কিভাবে ওরা এই এনগেইজমেন্ট আটকাবে। রাজ মেঘাকে বলে এটা কিছুতেই হতে পারে না। যেভাবেই হোক এই এনগেইজমেন্ট আটকাতে হবে। রাজ মেঘার হাত ধরে মেঘার রুম থেকে বাইরে বের হয় সবাই কে সবটা খুলে বলবে ভেবে। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে ওরা দুজনেই চমকে যাই। বাইরে বের হয়ে ওরা দেখে সবাই মেঘার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওরা বের হবার সাথে সাথে সবাই ওদের উপর ফুল ছিটাচ্ছে। সবার সামনে রিয়া দাঁড়িয়ে আছে আর রিয়াও ওদের উপর ফুল ছিটাচ্ছে। তারপর রিয়া দুটো আংটি নিয়ে এসে রাজ আর মেঘাকে বলল একজন আরেকজন কে আংটিগুলো পড়িয়ে দিতে।মেঘা অবাক হয়ে জিঙ্গাসা করল কেন? রিয়া বলল "কেন মানে, আজকে তোমাদের এনগেইজমেন্ট, আর এনগেইজমেন্টের দিন‌ আংটি পড়াবেনা"। রিয়া মেঘাকে মজা করে বলল " যদি তোমি আংটি পড়াতে না চাও তাহলে কিন্তু আমিই রাজ কে আংটি পড়িয়ে দেব"। রাজ আর মেঘা কিছুই বোঝতে পারছে না। তখন মেঘার মা ওদের কে সব কিছু খুলে বলল। মেঘা যখন কলেজে যাচ্ছিল না তখন রাজ মেঘার জন্য অস্তির হয়ে গিয়েছিল। রাজ এর এরকম অবস্থা দেখে রিয়া মেঘার বাড়িতে এসেছিল মেঘার খোঁজ নিতে। রিয়া মেঘার বাড়িতে এসে দেখে মেঘারও একই অবস্থা। মেঘা  আর রাজের অবস্থা দেখে রিয়া বোঝতে পারে ওরা দুজন দুজনকে কতটা ভালবাসে। কিন্তু রাজ আর মেঘা যে দুজন দুজনকে ভালবাসে এটা ওরা দুজনই বোঝতে পারছেনা। তাই রিয়া ওদের বিয়ের ব্যাপারে ওদের বাবা মাদের সঙ্গে কথা বলে। মেঘার বাবা মা রাজ কে খুব পছন্দ করে। আর রাজের বাবা মাও মেঘাকে খুব পছন্দ করে। ওদের দুজনের বাবা মা মনে মনে চাইত ওদের বিয়ে হোক। তাই ওনারা রিয়ার কথায় খুশি মনে রাজি হয়ে যাই। এবং আজকে মেঘার অন্য কারো সাথে নই রাজের সাথেই এনগেইজমেন্ট। আর রাজ আর মেঘা যে দুজন দুজনকে ভালবাসে সেটা ওদের কে বোঝানোর জন্যই ওদের কাছ থেকে সবকিছু গোপন রাখা হয়েছে। আর এই সবকিছুই রিয়ার বুদ্ধিতে হয়েছে। রাজ আর মেঘা সব কিছু শুনে রিয়াকে ধন্যবাদ জানায় এবং একজন আরেকজন কে আংটি পড়িয়ে দেই। কিছু দিনের মধ্যে ডুমডাম করে রাজ আর মেঘার বিয়ে হয়ে যাই। বিয়ের পরেও এখনো ওদের মধ্যে আগের মতই ঝগড়া খুনশুটি লেগে থাকে। কিন্তু যতই ঝগড়া হোক একজন আরেকজন কে প্রাণ দিয়ে ভালবাসে।

আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এর আগের পর্ব গুলো পড়তে চাইলে। এবং  এরকম আরো পোষ্ট পড়তে চাইলে ঘুরে আসুন আমার ব্লগ swarnaliirinsathi.blogspot.com- এ।

অথবা  swarnaliirinsathi.wordpress.com-এ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অফুরন্ত ভালবাসা পর্ব-2

ভাই আর বোন

আসছে দেব-রুক্মিনীর নতুন ছবি "কিডন্যাপ"