জানিনা কখন ভালবেসেছি তোকে পর্ব-4
মেঘার বিয়ের কথা শুনে রাজ এর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। রাজ এর মুখ দিয়ে আর কোন কথা বের হচ্ছিলনা। রাজ মেঘার বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছে। রাজের মনে হচ্ছে কেউ যেন ওর দুই পাঁয়ে বড় বড় দুটি পাথর বেঁধে দিয়েছে। ওর পা যেন কিছুতেই চলছে না। আর সারা পৃথিবী যেন ঘুরছে। রাজ কিছুতেই ভাবতে পারছেনা, মেঘার বিয়ে হয়ে যাবে। মেঘা রাজ কে ছেড়ে চলে যাবে। মেঘা না থাকলে কে রাজ কে শাসন করবে, কে ওকে সামলাবে। রাজ মেঘাকে ছাড়া কি করে থাকবে। ও কি মেঘাকে ছাড়া বাঁচতে পারবে। এরকম হাজারটা প্রশ্ন রাজের মাথায় ঘুরছে। আর রাজ এই প্রশ্ন গুলোর একটা উত্তরই বার বার খুজে পাচ্ছে। না রাজ কিছুতেই মেঘাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। মেঘাকে ছাড়া বেঁচে থাকা রাজের পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু রাজ এখন কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। মেঘার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে কি করে আটকাবে এই বিয়ে। রিয়াকেই বা কি বলবে। এইসব কথা ভাবতে ভাবতে রাজ নিজের বড়িতে গিয়ে পৌছায়।রাজও প্রায় সবার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। ঘর থেকে বের হয়না। কলেজে যাইনা। ঠিক ভাবে খাই না। এই ভাবে দেখতে দেখতে মেঘার এনগেইজমেন্টের দিন চলে এসেছে। রাজ এর বাবা মা মেঘার এনগেইজমেন্টের অনুষ্ঠানে যাবার জন্য রেডি হচ্ছে। আর ওর মা রাজ কে তারাতারি তৈরি হওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছে। রাজ ওর নিজের ঘরে চুপ করে বসে আছে আর ভাবছে এই অনুষ্ঠানে যাবে নাকি যাবে না। ওর চুখের সামনে মেঘাকে অন্য কেউ আংটি পরাবে এটা ও সয্য করতে পারবে না। এমন সময় রিয়া রাজের বাড়িতে আসে। রিয়া রাজের কাছে গিয়ে জানতে চাই রাজ কেমন আছে। রাজ কলেজে যাচ্ছে না কেন। রাজ ওর কথার কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে বসে রয়েছে যেন ও কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। হঠাৎ করে রাজ রিয়ার দিকে তাকিয়ে একদমে রিয়াকে বলে দিল " রিয়া আই এম সরি তোমাকে আমার ভাল লাগে কিন্তু আমি তোমাকে ভালবাসি না আমি মেঘাকে ছাড়া বাঁচব না"। রাজ এর কথা শুনে রিয়া চুপ করে রাজ এর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। রিয়া যেন একেবারে থমকে গেছে, ঝড় আসার পূর্বে আকাশ যেমন থমকে থাকে ঠিক সেরকম। রাজও চুপ করে রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। রাজ বোঝতে পারছেনা রিয়া এখন কি বলবে, কি করবে। হঠাৎ করে রাজ কে অবাক করে দিয়ে রিয়া একটা মুচকি হাসি দিয়া বলল "নিজের মনের কথাটা কি নিজের মনের ভিতর রেখেই বসে থাকবে নাকি মেঘাকে জানাবে, মেঘারত আজকে এনগেইজমেন্ট হয়ে যাচ্ছে, তোমি কি ওকে ওর বিয়ের পর জানাবে" । রিয়ার কথায় রাজ এর খেয়াল হল সত্যিইত রাজ এখনো মেঘাকে ওর মনের কথা জানায় নি। রাজ কে যত তারাতারি সম্ভব মেঘাকে ওর মনের কথা জানাতে হবে। আর যেভাবেই হোক মেঘার এই এনগেইজমেন্ট ভাঙ্গতে হবে। রাজ ছুটে মেঘার বাড়িতে যাই।
আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এর আগের ও পরের পর্ব গুলো পড়তে চাইলে। এবং এরকম আরো পোষ্ট পড়তে চাইলে ঘুরে আসুন আমার ব্লগ swarnaliirinsathi.blogspot.com- এ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন