দেবের চলচ্চিত্র জীবন পর্ব-1

দেবের চলচ্চিত্র জীবন

২০০৫-০৭

ডিপ্লোমা ডিগ্রী নেবার পর দেব তাঁর সিনেমার জীবন শুরু করে হিসেবে, আব্বাস-মুস্তানের "টারজানঃ দ্য ওয়ান্ডার কার"-এর সেটে। সে "কিশোর নমিত কাপুর অ্যাক্টিং একাডেমী" হতে অভিনয়ের কোর্স করেন। তাঁর প্রথম মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় ২০০6 সালে প্রবীর নন্দী কর্তৃক নির্মিত ও স্বপন কুমার সাহা কর্তৃক প্রযোজিত অগ্নিশপথ সিনেমায়। এ সিনেমায় সে রচনা ব্যানার্জীর বিপরীতে অভিনয় করে। ছবিটি বক্স অফিসে তেমন কিছু করতে না পারায় ফ্লপ হয়। এই সময় সে রবি কিনাগী কর্তৃক নির্মিত ও শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস কর্তৃক প্রযোজিত আই লাভ ইউ ছবিতে অভিনয় করে। এই সিনেমায় সে পায়েল সরকারের বিপরীতে অভিনয় করে।

এই ছবির সাফল্যের পরও দেব ১৪ মাস অভিনয় থেকে দূরে থাকে। সে মুম্বাই যায় এবং সেখানে নাচ ও ফাইটিং শেখে বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার এজাজ গুলাবের কাছে।

২০০৮-১০

এরপর দেব পুনরায় অভিনয়ে ফিরে আসে এবং রবি কিনাগী কর্তৃক নির্মিত ও শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস কর্তৃক প্রযোজিত প্রেমের কাহিনী ও সুজিত গুহ কর্তৃক নির্মিত সুরিন্দার ফিল্মস কর্তৃক প্রযোজিত মন মানে না ছবিতে অভিনয় করে। এই দুটো সিনেমাতেই দেবের বিপরিতে কোয়েল মল্লিক অভিনয় করে। তারপর তিনি রাজ চক্রবর্তীর চ্যালেঞ্জ ছবিতে শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বিপরীতে অভিনয় করে। এই ছবিটি প্রযোজনা করে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস।এই ছবি দেবকে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে যায়। এই ছবিটি পশ্চিম বাংলায় বেশ হিট হয়।

দেব চিরদিনই তুমি যে আমার ছবিতে বিশেষ ভাবে আবির্ভূত হন। বিভিন্ন আইটেম গানে সে অভিনয় করে

তারপর সে পরান যায় জ্বলিয়া ও দুজনে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এবং জ্যাকপট ছবিতে বিশেষ ভাবে আবির্ভূত হন।

২০১০ সালে তিনি স্টার আনন্দ সেরা নতুন প্রতিভা অ্যাওয়ার্ড পান। সেই বছরেই সে বলনা তুমি আমার, লে ছক্কা, সেদিন দেখা হয়েছিল ও দুই পৃথিবী ছবিতে অভিনয় করে। এবং একটি তারার খোঁজে সিনেমায় বিশেষ ভাবে আবির্ভূত হয়। দুই পৃথিবী ছবিটি খুবই বিখ্যাত হয়।

২০১১-১৩

২০১১ সালে দেব রাজিব বিশ্বাস পরিচালিত ও সুরিন্দার ফিল্মস প্রযোজিত পাগলু ছবিতে কোয়েল মল্লিকের বিপরীতে অভিনয় করে। এই ছবিটি চ্যালেঞ্জ ২(অক্টোবর, ২০১২) এর আগ পর্যন্ত মুক্তির প্রথম দিনে সর্বাধিক দর্শক দেখার রেকর্ড করে। স্টার জলসায় যেদিন এই ছবিটি দেখানো হয়, সেদিন এই ছবিটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ টি.আর.পি(প্রায় ১২.২৫) আয় করে। এই ছবি টি.আর.পি যুদ্ধে থ্রি ইডিয়টসকেও পিছনে ফেলে দেয়। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে এই ছবিটি ১৬৬টি সিনেমা হলে এবং ২য় সপ্তাহে ১৬৯টি থিয়েটারে মুক্তি পায়। ১৩ই জুন, ২০১১ পর্যন্ত এর ম্যাটিনি শো ৫ কোটি টাকা আয় করে। এই ছবিটি ছিল বিনোদনমূলক। এর গান, অভিনয় সবকিছুই ছিল অসাধারণ। এই ছবি বাংলায় এতই বিখ্যাত হয় যে সালমান খানের রেডি ছবিকেও এটি পেছনে ফেলে দেয়।

নভেম্বর,২০১১ সালে সুজিত মন্ডল পরিচালিত তাঁর রোমিও ছবি মুক্তি পায়। এই ছবিতে শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবিটি সর্বস্তরের লোকের কাছ থেকে, এমনকি সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পায়।

জানুয়ারি, ২০১২ সালে আবারো শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বিপরীতে তাঁর খোকাবাবু ছবি মুক্তি পায়। এস্‌কে মুভি প্রযোজিত এই ছবিটি টানা ৩০০ দিন থিয়েটারে চলে আগের সকল রেকর্ড করে। এই ছবির ডান্স মারে খোকাবাবু নামক গানটি টলিউডের সবচেয়ে ব্যায়বহুল গান। তবে অক্টোবর, ২০১২-তে চ্যালেঞ্জ ২-এর চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা গানটি এই রেকর্ড ভেঙে দেয়।

আগস্ট, ২০১২ সালে তাঁর অভিনীত পাগলু ২ মুক্তি পায়। একই প্রযোজক ও একই অভিনেত্রীর বিপরীতে অভিনীত এ ছবিটি হিট হলেও পাগলু (২০১১) এর মত বিখ্যাত হয়নি।

অক্টোবর, ২০১২ তে রাজা চন্দ পরিচালিত ও শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রযোজিত চ্যালেঞ্জ ২ মুক্তি পায়। পূজা বোসের বিপরীতে অভিনীত এ ছবিটি  একই সাথে ২৭০টি থিয়েটারে সারা ভারত জুড়ে (পশ্চিম বাংলা, বিহার, দিল্লি, ছত্রিশগড়, মধ্য প্রদেশ) একসাথে মুক্তি পায়। এই ছবিটি ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে ব্লকবাস্টার হিট হয়। পাগলু প্রথম সপ্তাহে বক্স অফিসে ৪.১৫ কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ ২ প্রথম সপ্তাহেই ১১.৩৫ কোটি টাকা আয় করে। চ্যালেঞ্জ ২ ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবিও বটে। এই ছবির বাজেট ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
এর প্রথম সপ্তাহে ১২০০০+ দর্শক দেখে এবং এভাবে এটি খোকাবাবুকেও পেছনে ফেলে দেয়। তাই এই ছবি সর্বকালের ব্লকবাস্টার (All-Time Blockbuster)আখ্যা পায়।

জুন, ২০১৩ তে মুক্তি পেয়েছিল শুভশ্রী গাঙ্গুলী ও নুসরাত জাহানের বিপরীতে, রাজিব বিশ্বাস পরিচালিত ও এস্‌কে মুভিজের ব্যানারের চলচ্চিত্র খোকাবাবুর সিক্যুয়েল খোকা ৪২০। ত্রিমুখী প্রেমের এই ছবিতে অভিনয় করেছেন রজতাভ দত্ত, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পালসহ আরো অনেকে। তবে খোকাবাবুর সাথে এর গল্পের চরিত্রগত ছাড়া অন্য কোন মিল নেই। ছবিটি প্রচন্ড হিট হয় এবং প্রথম দিনের আয়ে চ্যালেঞ্জ ২কেও পিছনে ফেলে দেয়। তেলেগু ছবি বৃন্দাবনম্‌-এর গল্প অবলম্বনে তৈরি এই ছবি।

২০১৩ সালের ১১ই অক্টোবর দুর্গা পূজার সময় মুক্তি পেয়েছিল রংবাজ চলচ্চিত্র। সুরিন্দার ফিল্মসের ব্যানারে, রাজা চন্দর পরিচালনায় এবং কোয়েল মল্লিকের বিপরীতে এই ছবিতে আরো থাকবেন রজতাভ দত্ত, রাহুল দেব প্রমুখ। এই চলচ্চিত্র আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিলেও মাত্র দুই মাসের মাথায় দেবেরই অভিনীত চাঁদের পাহাড় সেই রেকর্ড ভেঙে দেয়।

ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে মুক্তি পায় প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁদের পাহাড় উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ও শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে চাঁদের পাহাড় চলচ্চিত্র তৈরী হয়। এই ছবিটির শ্যুটিং হয়েছে আফ্রিকার জঙ্গলে। সিংহের মোকাবেলা ও ব্ল্যাক মাম্বার মত ভয়ানক সাপের সাথে যুদ্ধ, সবটাই আছে এ ছবিতে। পরিচালক দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যে প্রথম থেকেই তাদের দেবকে নেবার ইচ্ছে ছিল, কারণ ছবির স্বার্থে এরকম স্পোর্টি দেহই তাদের দরকার। এর আগেও অনেকেই এই ছবিটি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাজেটের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বেশি বাজেটের ছবিটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে ইতোমধ্যেই রেকর্ড করেছে। সর্বস্তরের মানুষ এই চলচ্চিত্রটির ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এর আগের ও পরের পর্ব গুলো পড়তে চাইলে। এবং  এরকম আরো পোষ্ট পড়তে চাইলে ঘুরে আসুন আমার ব্লগ swarnaliirinsathi.blogspot.com- এ।

অথবা  swarnaliirinsathi.wordpress.com-এ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অফুরন্ত ভালবাসা পর্ব-2

ভাই আর বোন

আসছে দেব-রুক্মিনীর নতুন ছবি "কিডন্যাপ"